পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির নেতারা বলেন, ঈদুল আজহা ত্যাগ, আনুগত্য ও তাকওয়ার মহান শিক্ষা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর কাছে উপস্থিত হয়। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাঈল (আ.)-এর আত্মত্যাগের আদর্শ আজও ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং আল্লাহভীতির চর্চা জোরদার করার প্রেরণা দেয়।
এক বিবৃতিতে দলটির নেতারা বলেন, দেশের জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও ভোগান্তিমুক্ত করতে সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
নেতারা আরও বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষও সেই আনন্দের অংশীদার হতে পারে। তাই সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, কোরবানির মাংস আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং অভাবগ্রস্তদের মাঝে যথাযথভাবে বণ্টন করতে হবে।
বিবৃতিতে তারা সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শ্রমজীবী মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয় এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
দলটি অভিযোগ করে, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, সড়ক নিরাপত্তার ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন এবং বিশ্বের নানা প্রান্তে মুসলিম উম্মাহর ওপর আগ্রাসনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়। নেতারা এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এছাড়া ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার চর্চায় বাধা ও হয়রানির ঘটনাও নিন্দা জানানো হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা সৌদি আরবে হজ পালনরত বাংলাদেশিসহ বিশ্বের সকল হাজির জন্য হজ্বে মাবরুর, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কামনা করেন। তারা বলেন, ঈদুল আজহার শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সবশেষে তারা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করেন, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দেন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেন।
কসমিক ডেস্ক