গাজা উপত্যকার উদ্দেশে মানবিক সহায়তা বহনকারী একটি আন্তর্জাতিক নৌবহরকে আবারও আটকের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের এই বহরটি খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জাম নিয়ে অবরুদ্ধ গাজার মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। তবে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকেই এটিকে থামিয়ে দেয় ইসরায়েলি নৌবাহিনী।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের ১২ এপ্রিল স্পেনের একটি বন্দর থেকে এই নৌবহর যাত্রা শুরু করে। এটি ছিল দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
আয়োজকদের দাবি, গ্রিসের কাছাকাছি ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায়, বিশেষ করে Crete দ্বীপের সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নৌবহরটিকে আটক করা হয়। তাদের ভাষায়, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ‘জলদস্যুতার’ শামিল।
আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো রাষ্ট্র তার নিজস্ব জলসীমার বাইরে গিয়ে এ ধরনের অভিযান চালানোর অধিকার রাখে না। তারা অভিযোগ করেন, ইসরায়েল শুধু গাজা অবরোধই জোরদার করছে না, বরং ইউরোপীয় উপকূলসংলগ্ন এলাকাতেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি Danny Danon ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, নৌবহরটিকে ইসরায়েলি জলসীমায় প্রবেশের আগেই থামানো হয়েছে, যা নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অবরুদ্ধ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো একটি মৌলিক অধিকার, যা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে, গাজায় প্রবেশ করা যেকোনো পণ্য বা সহায়তা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই তা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের অক্টোবরে গাজাগামী আরেকটি নৌবহর ইসরায়েলি বাহিনী দ্বারা থামিয়ে দেওয়া হয়। সেই অভিযানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পরিবেশ আন্দোলনকর্মী Greta Thunberg-সহ ৪৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীকে আটক করা হয়েছিল। ওই ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা উপত্যকাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অবরোধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ইস্যু এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ। একদিকে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা, অন্যদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ—এই দুইয়ের সংঘাত থেকেই বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা কীভাবে এই সংকটের সমাধানে এগিয়ে আসে এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর পথ তৈরি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কসমিক ডেস্ক