দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামোতে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন Nahid Islam। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর Rupayan Tower-এ এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন হলেও বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি সরকার প্রতিস্থাপন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ আগের মতোই পরিচালিত হচ্ছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আবারও দলীয়করণের শিকার হচ্ছে।
তার ভাষায়, “আমরা দেশটাকে আগের কোনো বন্দোবস্তে ফেরত যেতে দিতে পারি না। কিন্তু বাস্তবে এখন সেই দিকেই দেশ এগোচ্ছে।”
সংস্কার ইস্যুতে তিনি অভিযোগ করেন, ঐকমত্য কমিশনে যে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমান সরকার নষ্ট করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছি, তা বাস্তবায়নের বদলে সরকার সেই সম্ভাবনাগুলো ধ্বংস করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাসহ মোট ৪৭ জন নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
নতুন যোগদানকারীদের নাম ঘোষণা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আজ থেকে তাদের পরিচয় একটাই—তারা এনসিপির কর্মী। তবে কোনো চাঁদাবাজ, অপরাধী বা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কেউ এনসিপিতে জায়গা পাবে না।”
তিনি দলের শৃঙ্খলা ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী শিবিরের অসন্তোষের প্রতিফলন। বিশেষ করে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও কাঠামোগত সংস্কার না হওয়া নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা আবারও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংস্কার, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং দলীয় প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।