ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে। এরই মধ্যে এক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রোহিঙ্গা’ বলে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করায় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ না করলেও তার ইঙ্গিত কোন প্রার্থীর দিকে—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা। বক্তব্যে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে সদর আসনের এমপি সরাইল–আশুগঞ্জ এলাকায় এসে মাতাব্বরি করতেন। এখন একজন রোহিঙ্গা প্রার্থী সদরের একজনের কাছে গিয়ে বসে থাকেন।”
তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—কাকে তিনি ‘রোহিঙ্গা প্রার্থী’ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন।
এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। রুমিন ফারহানা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে একই রাজনৈতিক ধারার দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে।
জুনায়েদ আল হাবিবের হলফনামা অনুযায়ী, তার স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অষ্টগ্রাম এলাকায়। তবে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে তিনি ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া গ্রামের ঠিকানা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর–বিজয়নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুবের সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এ ধরনের মন্তব্য ভোটের পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই ব্যক্তিগত বক্তব্য ও ইঙ্গিতনির্ভর রাজনীতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান, ঠিকানা ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করছে, যা ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক