ফ্রান্স থেকে আরও ১৪০ জন নতুন ইহুদি অভিবাসী বিশেষ ‘ফ্যামিলি ফ্লাইট’-এর মাধ্যমে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। সোমবার (৩ আগস্ট) পরিচালিত এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে জেরুজালেমভিত্তিক আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান দূতাবাস (ICEJ), ইসরায়েলের অভিবাসন ও আত্মীকরণ মন্ত্রণালয় এবং ইহুদি সংস্থা (Jewish Agency)।
বিশেষ এই ফ্লাইটে অভিবাসীদের সঙ্গে ভ্রমণ করেন ইসরায়েলের অভিবাসন ও আত্মীকরণমন্ত্রী অফির সোফার এবং ইহুদি সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ডোরন আলমোগ। সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন অভিবাসীদের স্বাগত জানাতে এবং তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের অভিবাসীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি পরিবার রয়েছে। মোট ১৪০ জনের মধ্যে প্রায় ৮০ জনই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। তারা আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকেই সরাসরি ইসরায়েলের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। নতুন পরিবেশে তাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে শিক্ষা ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্স থেকে ইসরায়েলে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘ফ্যামিলি ফ্লাইট’ কর্মসূচিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্স থেকে আট হাজারেরও বেশি ইহুদি নাগরিক ‘আলিয়াহ’ কর্মসূচির আওতায় ইসরায়েলে স্থায়ীভাবে অভিবাসন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই অনেক ফরাসি-ইহুদি পরিবার ইসরায়েলকে নতুন আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক অভিবাসন শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তনই নয়, বরং ইসরায়েলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে ইহুদি অভিবাসনের প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক