ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’-এর সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া মন্তব্য প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে তিনি তার বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, তার মন্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বক্তব্যটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত, যা কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
তিনি আরও বলেন, তার উদ্দেশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বা মর্যাদাকে খাটো করা ছিল না, বরং উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা ছিল।
প্রতিমন্ত্রী তার ব্যাখ্যায় দাবি করেন, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে গবেষণার ঘাটতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং একাডেমিক ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসব প্রবণতার সমালোচনা করেন এবং বলেন, একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের অনিয়মের স্থান থাকা উচিত নয়।
তিনি জানান, পডকাস্টের আলোচনাটি অনানুষ্ঠানিক ছিল এবং এটি কোনো নীতিগত বা গবেষণাভিত্তিক বক্তব্য ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে এর অবদান নিয়ে তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, তিনি চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক।
সবশেষে তিনি জানান, তার মন্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় এবং অনেকে মনঃক্ষুণ্ণ হওয়ায় তিনি তার আগের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক না থাকার আশা প্রকাশ করেন।
কসমিক ডেস্ক