৮ হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা মেলেনি মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৮ হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা মেলেনি মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 29, 2026 ইং
৮ হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা মেলেনি মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ছবির ক্যাপশন: রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা না পেয়ে ধানমণ্ডির ফুটপাতে পড়ে আছেন অসুস্থ নারী দুলালী।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে ঘিরে। দুলালী নামের ওই নারী বর্তমানে ধানমণ্ডি ২৭ এলাকার জেনেটিক প্লাজার পাশের ফুটপাতে পলিথিন মুড়িয়ে পড়ে আছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘटनাটি সামনে আনেন মুছা করিম রিপন নামের এক যুবক। তিনি জানান, গত ২২ মে সকালে বাসার পাশের একটি গলিতে প্রথম ওই নারীকে দেখতে পান। তখনই তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর মনে হওয়ায় সাহায্যের চেষ্টা শুরু করেন। প্রথমে খাবার কিনে দিলেও নারীটি ঠিকভাবে খেতে পারছিলেন না। পরে চিকিৎসার আশায় একের পর এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

প্রথমে তাকে নেওয়া হয় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এ। সেখানে চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ওষুধ লিখে দিলেও ভর্তি বা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ। সেখান থেকেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

পরে ফার্মগেটের একটি বেসরকারি মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর জানানো হয়, নারীর মানসিক সমস্যার পাশাপাশি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতাও রয়েছে। এরপর তাকে অন্য শাখায় স্থানান্তরের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সেখানেও ভর্তি রাখা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি হাসপাতাল ঘোরার পরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন মুছা। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র, আইনগত অভিভাবক ও চিকিৎসা ব্যয়ের নিশ্চয়তা চেয়েছে। কিন্তু পরিচয়হীন ও অসহায় অবস্থায় থাকা ওই নারীর জন্য এসব ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ধানমণ্ডির একটি হাসপাতালে নেওয়ার পরও চিকিৎসা না পেয়ে তাকে আবার ফুটপাতেই ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন উদ্ধারকারী যুবক। বর্তমানে ওই নারী রাস্তার পাশেই মানবেতর অবস্থায় পড়ে আছেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন অসুস্থ মানুষ পরিচয়পত্র বা স্বজন ছাড়া কি জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার হারান? মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানবিক সংকটেরও প্রতিচ্ছবি।

মুছা করিম রিপন জানান, তিনি বিভিন্নভাবে সহায়তার চেষ্টা করেছেন। এমনকি “দুলালিকে বাঁচাতে চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও দাঁড়িয়েছেন। তার দাবি, দেশের প্রচলিত মানসিক স্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসকের বিবেচনায় ভর্তি করানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচয়হীন ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য সমন্বিত জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। সমাজসেবা অধিদপ্তর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এমন সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত ওই নারীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, অবহেলা চলতে থাকলে যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্

নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্