কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। তবে এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। মেমোরি চিপের উৎপাদন খরচ ও বাজারে ঘাটতির কারণে এবার পণ্যের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে অ্যাপল।
প্রতিষ্ঠানটির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক জানিয়েছেন, মেমোরি চিপের বাজার বর্তমানে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যা ‘অসহনীয়’। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম, বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির কারণে মেমোরি চিপের ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে গেছে। ফলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়াচ্ছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ছে।
বিশ্বের বড় চিপ নির্মাতা টিএসএমসি ও স্যামসাংও আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে সেমিকন্ডাক্টর সংকটের কারণে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়তে পারে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত র্যাম ও অন্যান্য মেমোরি উপাদানের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাও। বিশেষ করে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যা বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে বাজারে আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি ভালো হলেও, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন আইফোন ১৮ সিরিজের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু ডিভাইসের দাম বাড়ানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ আগামী দিনে শুধু অ্যাপল নয়, পুরো প্রযুক্তি খাতেই মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক