ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সরকারি সালেহা ইসহাক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনন্য এক ঘটনার সাক্ষী হন ভোটাররা। ৯২ বছর বয়সী ছাকেরা বেওয়া ভোট দিতে গিয়ে নিজের নাম ভোটার তালিকায় নেই এবং মৃত হিসেবে চিহ্নিত দেখেন।
ভোটকক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে মো. মাসুদ রানা। তিনি জানান, সকালে স্ত্রী সুমি খাতুনের সঙ্গে তার বৃদ্ধ মাকে ভোট দিতে নিয়ে যান। কেন্দ্রের বাইরে ভোটার তালিকায় ২৭২ নম্বর ক্রমিকের জায়গায় ছাকেরা বেওয়ার নাম ছিল, তবে ভোটকক্ষে যাচাই করার পর দেখা যায়, তালিকায় লেখা আছে ‘কর্তন করা হয়েছে’।
পোলিং অফিসার তালিকায় নাম যাচাই করার পর নিশ্চিত হন যে ছাকেরা বেওয়ার নাম নেই। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “ভোটার তালিকায় বৃদ্ধার নাম নেই, এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি নির্বাচন অফিসের একটি ভুল।”
জেলা অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি এবং দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত স্বজন ও ভোটাররা এই ঘটনা দেখে হতবাক হয়েছেন।
ছাকেরা বেওয়ার এই অভিজ্ঞতা ভোটার তালিকার ত্রুটির ফলে ঘটে, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। যদিও কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং কর্মকর্তারা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবুও বৃদ্ধা ভোটাররা এমন বিভ্রান্তির শিকার হলে হতাশা অনুভব করতে পারেন।
এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রশাসনের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভোটারদের সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত করার জন্য প্রশাসনকে আরও খুঁটিনাটি মনোযোগ দিতে হবে। ভোটারের অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা না ঘটে।
ছাকেরা বেওয়ার উদাহরণ বাংলাদেশের ভোটারদের কাছে একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে যে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে সাধারণ মানুষও ভোট দিতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। এর ফলে ভোটারদের আস্থা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়।