ইফতারে খেজুর খেয়ে অজান্তেই নিজের যেসব উপকার করছেন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইফতারে খেজুর খেয়ে অজান্তেই নিজের যেসব উপকার করছেন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 18, 2026 ইং
ইফতারে খেজুর খেয়ে অজান্তেই নিজের যেসব উপকার করছেন ছবির ক্যাপশন:

পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে খেজুর একটি অপরিহার্য খাবার। তবে শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও বলছে—সুস্থ থাকতে ও দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি দূরে রাখতে সারা বছরই নিয়ম করে খেজুর খাওয়া যেতে পারে। দিনে মাত্র দুই থেকে তিনটি খেজুর শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

পুষ্টির পাওয়ার হাউস

প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭–৩১৪ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি দৈনিক পটাশিয়ামের প্রায় ১৫ শতাংশ, ম্যাগনেশিয়ামের ১৩–১৪ শতাংশ এবং কপার ও আয়রনের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ এবং শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিড।

হজম ও অন্ত্রের সুরক্ষা

খেজুরে থাকা দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য

খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং উপকারী এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ ধমনির নমনীয়তা বজায় রাখতে সহায়ক।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি

খেজুরের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিন ‘ইন্টারলিউকিন-৬’-এর মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। এটি আলঝেইমারস বা স্মৃতিভ্রমজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

হাড়ের ঘনত্ব রক্ষা

খেজুরে সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা ও ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোধে এটি বিশেষভাবে উপকারী। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীদের জন্য খেজুর উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

প্রজনন ক্ষমতা ও রক্তস্বাস্থ্য

ভিটামিন বি৬ ও ম্যাগনেশিয়াম প্রজনন ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক। শুক্রাণুর গুণমান ও গতিশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। আয়রনের উপস্থিতি রক্তশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে এবং গর্ভাবস্থায় নিয়মিত খেজুর খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া এটি চুল পড়া কমাতেও সহায়ক।

অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের শক্তিশালী উৎস

অন্যান্য অনেক শুকনা ফলের তুলনায় খেজুরে ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনোলিক অ্যাসিডের ঘনত্ব বেশি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে।

সব মিলিয়ে, ইফতারে খেজুর খাওয়া শুধু ঐতিহ্য নয়—এটি একটি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। তবে অতিরিক্ত ক্যালরি ও প্রাকৃতিক চিনি বিবেচনায় দিনে ২–৩টির বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতে তারেক রহমান

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাতে তারেক রহমান