মজুত তেল বাজারে ছাড়তে পারে আইইএ, ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে তেলের দাম The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মজুত তেল বাজারে ছাড়তে পারে আইইএ, ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে তেলের দাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 11, 2026 ইং
মজুত তেল বাজারে ছাড়তে পারে আইইএ, ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে তেলের দাম ছবির ক্যাপশন: ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি সংকটের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ বাড়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি মজুত তেল ছাড়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে আইইএ

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জরুরি তেল মজুত বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে—এমন খবর সামনে আসার পর তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা করলেও তা ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় দামেই অস্থিরতা ছিল। এক পর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ৮৮ ডলারের আশপাশে এবং ডব্লিউটিআই ৮৩ ডলারের ঘরে অবস্থান করে। বাজারে মূল চাপ এসেছে এই ধারণা থেকে যে, যদি আইইএ সদস্যদেশগুলো সমন্বিতভাবে তেল ছাড়ে, তাহলে যুদ্ধজনিত সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব অন্তত আংশিকভাবে সামাল দেওয়া যেতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, আইইএর সম্ভাব্য এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা ২০২২ সালে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে ছাড়া ১৮ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের চেয়েও বড় হতে পারে। সেই সময় আইইএ-সমন্বিত তেল ছাড় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। এবারও একই ধরনের, তবে আরও বড় পরিসরের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে এখনো এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, জি-৭ দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে আইইএকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সম্ভাব্য বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করতে বলেছেন। অর্থাৎ বাজারে তেল ছাড়ার প্রস্তাব সামনে এলেও বাস্তবে কখন, কত পরিমাণে এবং কোন দেশ কতটা দেবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তেলের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামা দেখলেই বোঝা যায় বাজার কতটা সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দাম প্রায় চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি উঠে যায়। পরে মঙ্গলবার একদিনেই তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি পড়ে যায়, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতনের মধ্যে একটি। বাজারে এই পতনের পেছনে ছিল যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন রাজনৈতিক ইঙ্গিত এবং মজুত তেল ছাড়ার সম্ভাবনা।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়। এ কারণেই বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইইএর সম্ভাব্য মজুত তেল ছাড় কেবল দামের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ কমাতে পারে; দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য হরমুজ দিয়ে নিরাপদ জ্বালানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার বিশ্লেষকেরা আরও মনে করছেন, সামনে তেলের দাম খুবই অস্থির থাকবে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরবরাহ ঘাটতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি, ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকি এবং নীতিগত প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনে দাম বড় পরিসরে ওঠানামা করতে পারে। কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি খারাপ হলে তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে; আবার সমন্বিত হস্তক্ষেপ জোরালো হলে আরও নেমেও আসতে পারে।

এই বাস্তবতায় আইইএর প্রস্তাব বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত পাঠিয়েছে। সেটি হলো, ভোক্তা-নির্ভর বড় অর্থনীতিগুলো জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও জরুরি মজুত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সাধারণত তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, তবু এটি বাজারে আতঙ্ক কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ১৯৯১, ২০১১ ও ২০২২ সালের অভিজ্ঞতাও দেখায়, সমন্বিত মজুত তেল ছাড় অনেক সময় সরবরাহ ভয়ের চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকটের মধ্যে তেলবাজার এখন একদিকে সরবরাহ ঝুঁকি, অন্যদিকে নীতিগত সহায়তার প্রত্যাশার টানাপোড়েনে আছে। আইইএর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল ছাড়ের সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে, আর সে কারণেই ব্রেন্ট আপাতত ৯০ ডলারের নিচে রয়েছে। তবে যুদ্ধ, জাহাজ চলাচল ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত—এই তিনটির ওপরই আগামী দামের দিকনির্দেশ অনেকটা নির্ভর করবে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রবাসীদের পাঠানো ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট দেশে

প্রবাসীদের পাঠানো ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট দেশে