আইএসএসের রুশ মডিউলে বাতাস লিক, জরুরি সতর্কতায় নিরাপদ আশ্রয়ে পাঁচ নভোচারী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আইএসএসের রুশ মডিউলে বাতাস লিক, জরুরি সতর্কতায় নিরাপদ আশ্রয়ে পাঁচ নভোচারী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
আইএসএসের রুশ মডিউলে বাতাস লিক, জরুরি সতর্কতায় নিরাপদ আশ্রয়ে পাঁচ নভোচারী ছবির ক্যাপশন:

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (International Space Station) রাশিয়ার অংশে হঠাৎ বাতাস লিকের ঘটনা সামনে আসায় কিছু সময়ের জন্য চরম সতর্কতা পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ জভেজদা সার্ভিস মডিউলে (Zvezda Service Module) দীর্ঘদিন ধরে চলমান ক্ষুদ্র ফাটল ও লিক সমস্যার অংশ হিসেবে এই ঘটনা আরও উদ্বেগ বাড়ায়।

শুক্রবার মিশন কন্ট্রোল কেন্দ্র হঠাৎ লক্ষ্য করে যে বাতাস বের হওয়ার হার আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতিদিন প্রায় এক পাউন্ড পরিমাণ বাতাস লিক হতো, যা পরে দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পাঁচজন নভোচারীকে দ্রুত স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন (SpaceX Crew Dragon) মহাকাশযানে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই সময় তারা প্রায় দুই ঘণ্টা ওই মহাকাশযানে অবস্থান করেন, যেখানে জরুরি পরিস্থিতি হলে স্টেশন থেকে আলাদা হয়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। পরে নাসা ও রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস (Roscosmos) যৌথ পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হয় যে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরপর নিরাপদ আশ্রয়ের নির্দেশ তুলে নেওয়া হয় এবং নভোচারীদের আবার স্টেশনে ফিরতে বলা হয়।

রুশ পক্ষের প্রকৌশলীরা একই সময়ে মডিউলের দুটি সম্ভাব্য লিক পয়েন্ট শনাক্ত করে। এর মধ্যে একটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হলেও অন্যটির কাজ চলমান ছিল। তবে মেরামতের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে মতভেদ থাকায় নাসা সতর্কতামূলকভাবে পুরো ক্রুকে নিরাপদ অবস্থানে যেতে নির্দেশ দেয়।

বর্তমানে আইএসএসে মোট সাতজন নভোচারী অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং রসকসমসের সদস্যরা রয়েছেন। এই ক্রুর একটি অংশই জরুরি সতর্কতার সময় স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগনে আশ্রয় নেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএসএসে এমন “সেফ হ্যাভেন” প্রোটোকল খুবই বিরল। সাধারণত মহাকাশের আবর্জনা বা প্রযুক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকলেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২৭ বছরের ইতিহাসে এখনো কোনো বড় দুর্ঘটনায় পুরো স্টেশন খালি করার প্রয়োজন হয়নি।

নাসা জানিয়েছে, তারা রসকসমসের সঙ্গে সমন্বয় করে লিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ চালিয়ে যাবে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই জভেজদা মডিউলের ফাটল ও চাপ লিক নিয়ে উদ্বেগ ছিল, যা ভবিষ্যতে বড় রক্ষণাবেক্ষণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আইএসএসের কার্যকাল ২০৩২ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। কারণ হিসেবে মহাকাশে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অগ্রগতি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে।

এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে, দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ গবেষণা এখনো কতটা জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে ছোট একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটিও বড় ধরনের নিরাপত্তা সতর্কতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ