কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় খাল পুনঃখনন কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে খাল ভরাট করে সেখানে বাড়ি, মার্কেট, সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ির ব্রিজ থেকে গোপালনগর হয়ে আব্দুল্লাহপুর বুড়িনদী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৫ ফুট প্রশস্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন অংশে একাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি, পাকা মার্কেট, ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ করে খালের জায়গা দখল করে রেখেছে। কোথাও কোথাও খাল ভরাট করে আবাদি জমি তৈরি করা হয়েছে, ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমির উদ্দিন হাজী বাড়ির সামনে খালের ওপর পাকা মার্কেট, বসতবাড়ি ও ব্রিজ নির্মাণ করে পুরো খালের জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আরেকটি অংশে খালের ওপর পাকা বাড়ি, কালভার্ট স্থাপন এবং বিকল্প ড্রেন তৈরি করে মূল খালের অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার বলেন, ওই দুটি স্থানে খালের প্রকৃত প্রস্থ ছিল প্রায় ৪৯ ফুট। কিন্তু সড়কসহ প্রায় ৫০ ফুট খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যা খাল পুনঃখননের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন প্রকল্পে প্রতিদিন ১৭৮ জন শ্রমিক কাজ করবেন। ৪০ দিনের এই কর্মসূচিতে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে খালের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত স্থাপনা থাকায় কাজ সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দীন, রসুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার, সমাজসেবক আব্দুল আউয়াল ভূঁইয়া, ইউপি সচিব আবু সাঈদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, খাল খনন বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের উৎপাদন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, যারা খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের নিজ উদ্যোগে সেগুলো অপসারণের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, দেবীদ্বারের সব গুরুত্বপূর্ণ খাল উদ্ধার করে পুনঃখনন করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং পরিবেশ ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কসমিক ডেস্ক