কোরবানির ব্যস্ততা শেষে ঈদের আনন্দ এখন মিশে গেছে সমুদ্রের গর্জনে। আর সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের ভিড়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার থেকেই সৈকতজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল থেকেই লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে দেখা যায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে সমুদ্রস্নানে নেমেছেন, কেউ আবার ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছেন। অনেকে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন ক্যামেরায় স্মৃতি ধারণে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সৈকত এলাকা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
দীর্ঘ কর্মব্যস্ত জীবন ও নগর জীবনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে পরিবারসহ কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। পর্যটকদের অনেকেই জানান, সমুদ্রের গর্জন, নীল জলরাশি আর খোলা আকাশের নিচে এমন সময় কাটানো তাদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
ফেনী থেকে আসা পর্যটক সোহেল রানা বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজারে এসেছেন। তার সন্তান প্রথমবার সমুদ্র দেখে ভীষণ আনন্দিত। একইভাবে কুষ্টিয়া থেকে আসা নীলিমা জানান, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে পরিবারের সবাই মিলে সমুদ্রের পরিবেশ উপভোগ করছেন, যা তাদের জন্য অনেক দিন পর একসঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
পর্যটকদের আগমনে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোও। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ হোটেল কক্ষ ভাড়া হয়েছে এবং অন্তত ৪০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, ঈদের প্রথম দুই দিনে কোরবানির ব্যস্ততার কারণে পর্যটক কিছুটা কম থাকলেও এখন ধীরে ধীরে চাপ বাড়ছে। তারা আশা করছেন, আগামী দিনে পর্যটকের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। লাইফ গার্ড কর্মীরা সমুদ্রের বিপদজনক স্থানগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সতর্কতা জারি করেছেন। পাশাপাশি পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি চালাচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে সমুদ্রে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিপদজনক ঢেউ ও গভীর এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নীল জলরাশি, ঢেউয়ের গর্জন আর ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ মিলিয়ে কক্সবাজার এখন এক প্রাণবন্ত পর্যটন নগরীতে পরিণত হয়েছে। পর্যটকদের আশা, ছুটির পুরো সময়জুড়েই এমন আনন্দঘন পরিবেশ বজায় থাকবে এই জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে।
কসমিক ডেস্ক