কুরআনের দিকনির্দেশনা:
ইসলামে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আলোকিত আয়াতগুলোতে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি বিশ্বাসীকে কঠোরতা, হিংসা ও অপ্রয়োজনীয় সংঘাত থেকে বিরত থাকতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ:
"অবশ্যই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সঙ্গে আছেন।" (সূরা আল-ইমরান ৩:১৩০)
"যারা রাগ সামলে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে, তাদের জন্য মহান প্রতিদান রয়েছে।" (সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৩)
এই আয়াতগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবনের প্রতিটি বাঁকে ধৈর্য্য রাখা এবং সহনশীল থাকা একজন মুসলিমের মৌলিক দায়িত্ব।
নবী করিম (সাঃ)-এর জীবন ও শিক্ষার উদাহরণ:
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন অতুলনীয় সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সর্বদা কঠোরতা বা হিংসা নয়, বরং শান্তিপূর্ণ সমাধান ও ক্ষমার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতেন।
একটি চমকপ্রদ উদাহরণ হলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মক্কা বিজয়ের পর আচরণ। বিজয় অর্জন সত্ত্বেও তিনি প্রতিশোধ নেননি, বরং ক্ষমা ও সহনশীলতার পথ অবলম্বন করেছিলেন। এটি আমাদের শেখায় যে, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সহনশীলতা ইসলামের মূল চেতনা।
সমাজে শিক্ষার বার্তা:
বর্তমান সময়ে আমরা প্রায়ই দেখি, অল্প অসন্তোষ বা মতবিরোধ থেকে বিভাজন ও অশান্তি তৈরি হয়। ইসলামের শিক্ষা আমাদের নির্দেশ দেয়, এমন পরিস্থিতিতে রাগ বা হিংসা নয়, ধৈর্য্য ও সদ্ব্যবহারই সমাধানের মূল চাবিকাঠি।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন:
-
সহিষ্ণুতা: অন্যের ভুল সহ্য করা ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করা
-
ক্ষমা: অপরাধের প্রতিশোধ না নেওয়া
-
ধৈর্য্য: যেকোনো কষ্ট বা সমস্যা ধৈর্য্য ধরে সামলানো
-
সম্মান ও দায়িত্ব: ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা
এই শিক্ষাগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শান্তি ও সহনশীলতা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এক মুসলিমের আত্মার প্রকৃত সৌন্দর্য।
উপসংহার:
ইসলাম কখনোই হিংসা বা বিভাজনের পথ দেখায় না। কুরআন এবং নবীর জীবন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও শান্তি রক্ষা করাই প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে মমতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বজায় রাখতে আমরা এই শিক্ষার আলোকে পথপ্রদর্শক করতে পারি।
কসমিক ডেস্ক