নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সেবার নিম্নমান দেখে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালের হাজিরা খাতা, ডিউটি রোস্টার এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতি যাচাই করেন। এতে অনেক চিকিৎসক ও কর্মকর্তা দেরিতে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর তিনি জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব, বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং টয়লেট ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে নোয়াখালীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনার হোসেন-কে অস্থায়ীভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়েছে। তিনি আরও বলেন, যেখানে যাচ্ছেন, সেখানেই নানা ধরনের অনিয়ম ও অমানবিক পরিস্থিতি সামনে আসছে, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের সময় হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা সরাসরি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, সেবায় টাকা দাবি, খাবারের নিম্নমান এবং টয়লেটের অস্বাস্থ্যকর অবস্থার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনের পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে তৎপরতা বাড়ে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নামেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে শুধু অনিয়ম চিহ্নিত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও নিশ্চিত হবে।
কসমিক ডেস্ক