মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আরও একটি সংঘাতমূলক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা দেশটির বুশেহর উপকূলীয় অঞ্চলে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) স্থানীয় সময় রাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটি শনাক্ত করে গুলি করে নামানো হয়। বুশেহর অঞ্চলটি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত এলাকা, যেখানে আগেও ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা ঘটেছে।
বুশেহরের জাম কাউন্টির গভর্নর মাসুদ তাঙ্গেসতানি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ-কে বলেন, “আজ রাতে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা শত্রুদের একটি আকাশযান ধ্বংস করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। শহর এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আছে।”
এই ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক সামরিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার খবর পাওয়া যায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে বলে দাবি করে দেশটির সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, রাতের বেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে কিছু হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় একটি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেটিকে ওয়াশিংটন তাদের বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা বৃহস্পতিবার সকালে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এটি বন্দর আব্বাসে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা বাড়লে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কখনো সাময়িক প্রশমন হলেও আবারও তা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের পক্ষ থেকেই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক