মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাট এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি পুনরায় সামনে এসেছে। ১৯৭১ সালের ১৩ জুন সংঘটিত ওই ঘটনার স্মরণে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ দাবি জানান এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “১৯৭১ জেনোসাইড বাংলাদেশ: গোলাহাট, সৈয়দপুর স্মরণ আয়োজন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষক, লেখক এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরাম এবং বাংলা ভুবন ঐকতান।
অনুষ্ঠানে গোলাহাটের ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নিরাপদে সীমান্ত অতিক্রমের আশ্বাস দিয়ে বহু হিন্দু ও মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করা হয়েছিল। পরে তাদের ওপর সংঘটিত হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ ওই ঘটনায় নিহত হন।
জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক খালিদা আক্তার বলেন, গোলাহাটের হত্যাকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাওয়ার যোগ্য। তিনি এ ঘটনার বিচার, গবেষণা এবং যথাযথ স্বীকৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবউননেছা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত আরও কয়েকটি হত্যাযজ্ঞের তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি সিলেটের আদিত্যপুর, নীলফামারীর কালীগঞ্জ এবং নাটোরের ছাতনী এলাকার বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এসব ঘটনায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে নানা প্রলোভন বা আশ্বাস দিয়ে একত্র করার পর হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নারী নির্যাতন, গ্রাম ঘেরাও এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার মতো ঘটনাও আলোচনায় স্থান পায়।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত এসব হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ, শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব ঘটনার স্বীকৃতি অর্জনের জন্য গবেষণা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও গণহত্যার ঘটনাগুলোর নথিভুক্তিকরণ শুধু অতীত স্মরণের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের শেষে গোলাহাটসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
কসমিক ডেস্ক