কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে জাল টাকা দিয়ে কেনাকাটার চেষ্টার অভিযোগে নানী-নাতিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকার জাল নোট ও দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (৬ জুন) আটক দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার বাসিন্দা জমিলা বেগম (৬০) ও তার নাতি গোলাম রাব্বি (১৫)। তাদের বিরুদ্ধে জাল টাকা ব্যবহার এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গোলাম রাব্বি উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের সোনাহাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি মুদি দোকানে কেনাকাটার সময় একটি জাল নোট ব্যবহার করার চেষ্টা করে। দোকানদার টাকাটি হাতে নিয়ে সন্দেহ হলে ভালোভাবে পরীক্ষা করেন এবং সেটি জাল বলে বুঝতে পারেন। বিষয়টি টের পেয়ে গোলাম রাব্বি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন।
পরে স্থানীয়রা ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোলাম রাব্বির নানী জমিলা বেগমকেও আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট সাড়ে ৮ হাজার টাকার জাল নোট এবং দুই পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, জাল টাকা ব্যবহার করে কেনাকাটার ঘটনা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একই সঙ্গে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের উৎস শনাক্ত করার বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাল টাকা ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আটক নানী-নাতির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর শনিবার তাদের কুড়িগ্রাম জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাল মুদ্রা ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জাল টাকা ও মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সন্দেহজনক কোনো লেনদেন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।