গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রাজাহার ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রাজাহার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মইনুল ইসলাম সোমবার (৯ মার্চ) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
জমি বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাহার ইউনিয়নের বারেক মন্ডল ও তার ওয়ারিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।
এ নিয়ে আদালতেও মামলা রয়েছে।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
সোমবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের বানেশ্বর বাজারে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে বারেক মন্ডল তার জামাইসহ কয়েকজনকে নিয়ে উপস্থিত হন।
কিছুক্ষণ পর তাদের প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে এলে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
তবে রাজাহার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মইনুল ইসলাম তার অভিযোগে দাবি করেছেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা।
তিনি অভিযোগ করেন, লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল লোক বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে কয়েকজনকে আহত করে এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতাদের ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর ও পদদলিত করে।
অভিযুক্তদের নাম
লিখিত অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন—
-
লেবু মিয়া (৪২)
-
বেলাল মিয়া (৫০)
-
আব্দুল লতিফ (৫৫)
-
রুবেল মিয়া (৩৫)
-
ফারুক (৩০)
-
রানা মিয়া (৩২)
-
তামিম মিয়া (২৩)
-
মোজাম্মেল হক খোকা (৫৯)
-
হাসিব (২৩)
অভিযোগে তাদের আওয়ামী লীগের সমর্থিত সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে।
বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ লাইছুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে লেবু মিয়া যুবলীগের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যরা বিএনপির কর্মী-সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক