ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দেশটির জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি An-32 পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়।
ভারতীয় বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। বিমানটি রাশিয়ার তৈরি একটি সামরিক পরিবহন বিমান, যা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত জোরহাট বিমানঘাঁটিতে। এই ঘাঁটিটি সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দুর্ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এনডিটিভি প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিধ্বস্ত বিমানের অংশগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এলাকাটিতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে বিমানবাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
An-32 বিমানটি মূলত রাশিয়ার তৈরি একটি টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা সাধারণত মালামাল পরিবহন, সৈন্য পরিবহন এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত হয়। এটি বিভিন্ন প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম বলে পরিচিত।
ভারতীয় বিমানবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের বিমান ব্যবহার করে আসছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরোনো বিমানগুলোর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমান দুর্ঘটনার পর বিমানটির প্রযুক্তিগত অবস্থা, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং অবতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক বিমানের অবতরণকালীন দুর্ঘটনা সাধারণত প্রযুক্তিগত ত্রুটি, পাইলটের সিদ্ধান্ত বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কসমিক ডেস্ক