দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন (Drammen) শহরের কাছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০০টিরও বেশি বাড়িঘর পুড়ে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শত শত বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে কাজ করছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেলে ড্রামেন শহরের একটি সারিবদ্ধ আবাসন বা টাউনহাউস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাস ও শুষ্ক পরিবেশের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের আবাসিক এলাকা এবং সংলগ্ন বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একের পর এক বাড়িতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন নেভাতে ৬০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী নিরলসভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশ থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দুর্গম এলাকা ও বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শত শত বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে (NRK) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করছে।
এখন পর্যন্ত আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করবেন।
ড্রামেন শহরটি নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক