যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইরানসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য আফ্রিকার অস্থিতিশীল দেশ Central African Republic-এ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই আইনজীবী ও এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যে ইরান, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ২০ জন অভিবাসীকে একটি ফ্লাইটে করে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সুরক্ষা “উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল” পেয়েছেন, যার ফলে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলে নির্যাতনের ঝুঁকি থাকায় তাদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।
তবে এখন তাদের তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, পরিকল্পিত তালিকায় থাকা দুই ইরানি নারী নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তাদের একজন খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যার আওতায় তৃতীয় দেশের অভিবাসীদের গ্রহণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই চুক্তির ভিত্তিতেই অভিবাসীদের সেখানে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছাড়া এমন চুক্তি মানবাধিকারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অনেক অভিবাসীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে যাদের পাঠানো হবে তাদের রাজধানী বাঙ্গুইয়ের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে ভবিষ্যতে শত শত অভিবাসীকে এভাবে তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক