লালমোহনে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

লালমোহনে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
লালমোহনে বিএনপি–জামায়াত সমর্থিত দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এসব সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর রাতে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণভোট ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে জামায়াতের নারী কর্মীরা একটি বাড়িতে যান। এ সময় স্থানীয় এক যুবক নারী কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালাগাল করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিজামুল হক নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানার পর এক নারী কর্মীর স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখানে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ওই যুবক জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এর মধ্যেই বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, পরে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। তাদের নেতাকর্মীরা বাজার এলাকা ছাড়ার সময় পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। এতে বিডিপির অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন, যারা বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিডিপি প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম।

অন্যদিকে, লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, জামায়াতের সহায়তায় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কিছু সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, সন্ধ্যার দিকে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ক্যাডাররা বিএনপির যুবদল নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

তিনি জানান, এই হামলায় বিএনপির অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে।

তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া এবং পাল্টা জড়ো হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়ায়। রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ইট দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৯ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

ওসি অলিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আতশবাজি, মিরপুরে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আতশবাজি, মিরপুরে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্