মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে আবারও তীব্র গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নতুন করে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আলজাজিরার সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের Beit Lif, Qantara এবং Tulin এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান ধরে রেখেছে এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবার সরাসরি আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও পূর্বে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময়েও সেনা প্রত্যাহার সম্পূর্ণভাবে করা হবে না।
এরই মধ্যে গতকাল দক্ষিণ লেবাননে একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বাইত ইয়াহুন এলাকায় একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা এমন সময় ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি ইসরায়েলকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেওয়ায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যুদ্ধবিরতির কারণে কিছুদিন আগে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছিলেন। Beirut ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বৈরুত থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিডন ও টায়ারের দিকে হাজার হাজার মানুষ রওনা দেন। এতে উপকূলীয় মহাসড়কগুলোতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় পর বাড়ি ফেরার আনন্দে অনেককে বিজয়চিহ্ন দেখাতেও দেখা যায়।
তবে নতুন করে গোলাবর্ষণ ও হামলার কারণে সেই স্বস্তি আবারও অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় তারা এখনো সতর্ক অবস্থায় আছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান হামলা ও সামরিক অবস্থান ভবিষ্যতে বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।
কসমিক ডেস্ক