সুদানের দক্ষিণ কুর্দোফান রাজ্যে একটি সামরিক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এতে চিকিৎসকসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কুর্দোফানের আল-কুয়েইক সামরিক হাসপাতালে চালানো হামলায় হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টরসহ আরও তিন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানায়, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা একটি যুদ্ধাপরাধ। সংগঠনটি দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দক্ষিণ কুর্দোফানজুড়ে ধারাবাহিক হামলার কারণে একাধিক হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে ইতোমধ্যে চলমান মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য অবশিষ্ট স্বাস্থ্যসেবাও হুমকির মুখে পড়ছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এই হামলার জন্য আরএসএফকে সম্পূর্ণ দায়ী করে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে চিকিৎসা স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আরএসএফের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সুদানের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর অঞ্চলের পাঁচটি রাজ্যের প্রায় পুরো নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে আরএসএফের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর দারফুরের কিছু অংশ এখনও সুদানি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ১৩টি রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা এবং রাজধানী খার্তুমের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সুদানি সেনাবাহিনীর হাতে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানি সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে দেশজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক