জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান, মাঠে প্রায় ৪ হাজার সদস্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান, মাঠে প্রায় ৪ হাজার সদস্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 9, 2026 ইং
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান, মাঠে প্রায় ৪ হাজার সদস্য ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের বিশেষ অভিযান। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ছয়টা থেকে অভিযান শুরু হয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন জানান, ভোর থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় দেশের ভেতরে আরেক দেশ বলা হতো। দেশের ভেতরে এভাবে আলাদা কোনো নিয়ন্ত্রণহীন এলাকা থাকতে পারে না। এখানে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।”

অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথেই তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযানের সময় কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারির জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক শনাক্ত করতে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন সদস্য, ৪০০ র‍্যাব সদস্য এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য অংশ নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় সমন্বিত অভিযান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মূলত গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার পর থেকেই এই এলাকায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ওই ঘটনার পর সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের ধরতে গেলে ইয়াসিনের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর বিস্তৃত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি।

অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় মূলত দুটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গণভোটে সরকারের অবস্থান নেওয়া অস্বাভাবিক নয়: শফিকুল আলম

গণভোটে সরকারের অবস্থান নেওয়া অস্বাভাবিক নয়: শফিকুল আলম