‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে সিগারেট বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন, যা বললেন জুমা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে সিগারেট বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন, যা বললেন জুমা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 18, 2026 ইং
‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে সিগারেট বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন, যা বললেন জুমা ছবির ক্যাপশন:
ad728

শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কুয়াশার গান’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানে স্মোকিং জোনে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই কনসার্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি শীতার্ত মানুষের সহায়তায় একটি দাতব্য সঙ্গীতানুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় ডাকসু ও স্পিরিট অব জুলাই। ঘোষণায় জানানো হয়, ১৭ জানুয়ারি বিকেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কনসার্ট শুরু হলে মাঠের ভেতরে নির্ধারিত স্মোকিং জোনে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং দাতব্য উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিশেষ করে ডাকসুর ব্যানারে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। এক পোস্টে তিনি লেখেন, ডাকসুর আয়োজনে সিগারেট বিতরণ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি ‘গোলামী না আজাদী’ স্লোগানের বিপরীতে গোলামির অবস্থানও কাম্য নয়। একটি ভুলকে আরেকটি ভুল দিয়ে正যাস্টিফাই করার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

আরেকটি পোস্টে জুমা আরও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ডাকসুর ব্যানারে সিগারেট প্রমোট করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন সিদ্ধান্ত কার মাথা থেকে আসে এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সম্পাদকদের কেন এই দায় নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রোকেয়া হলের এক শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ আছিয়া আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, তিনি কনসার্টের স্পন্সর সম্পর্কে আগে জানতেন না। পরে শুনেছেন, একটি বিড়ি কোম্পানি স্পন্সর করেছে এবং কনসার্টে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হয়েছে। তিনি একে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন এবং সাম্প্রতিক ধূমপান ও তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের কথাও উল্লেখ করেন।

এদিকে কনসার্ট চলাকালে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের বক্তব্য ও স্লোগান ঘিরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তার দেওয়া বিভিন্ন স্লোগানের জবাবে শিক্ষার্থীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে কনসার্টের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ও সিগারেট বিতরণকেন্দ্রিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি জানান, কনসার্টের স্পন্সরের সঙ্গে যোগাযোগ বা শর্ত নির্ধারণে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত ছিলেন না এবং পুরো ডাকসু এই আয়োজনে সম্পৃক্ত ছিল না।

তিনি আরও বলেন, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মোকিং জোনে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের বিষয়টি তার অজানা ছিল এবং বিষয়টি জানার আগেই ঘটনা ঘটে যায়। এ ঘটনায় তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দায়িত্বশীল আয়োজন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্বের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: রাজশাহীর প্রার্থীদের স্ত্রীদের সম্পদ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: রাজশাহীর প্রার্থীদের স্ত্রীদের সম্পদ