নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় তিন মাসের বকেয়া বেতন, শ্রমিক ছাঁটাই ও নির্যাতনের অভিযোগে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, ফলে যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে তারাবো পৌরসভার মৈকুলি এলাকায় অবস্থিত বি-ব্রাদার্স গ্রুপ-এর কারখানার শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক-এ যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যানজট আরও বিস্তৃত হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন পরিবহন আটকে থাকে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানাটিতে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। তাদের ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। একাধিকবার মালিকপক্ষের কাছে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শ্রমিকের বিরুদ্ধে ছাঁটাই ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন তারা। শ্রমিকদের দাবি, প্রতিবাদ করায় কিছু সহকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদেই তারা সড়কে নেমে আসেন।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে জড়ো হন এবং পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ ও ছাঁটাই বন্ধের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অবরোধ অব্যাহত থাকে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। অনেক যাত্রী বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করেন, তবে যানজটের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থান বিবেচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হলে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় শুরু হবে এবং শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়েও একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক