তারেক রহমানকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তারেক রহমানকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 23, 2026 ইং
তারেক রহমানকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছবির ক্যাপশন:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে চীনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেশটি সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে চীন সরকার। একই সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

হুমায়ুন কবীর বলেন, চীন সফরের আমন্ত্রণটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলেও সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী সময়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় উঠে আসে। পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। সময়ের পরিক্রমায় সেই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে।

বর্তমানে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবীর। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বৈঠকে এই সহযোগিতা আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলেও বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। নতুন সরকারের অধীনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সাক্ষাৎ শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও বহন করে। বিশেষ করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং চীন এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী। বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় চীন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চীন সফর হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি আনতে পারে। অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার নীতিতে এগোচ্ছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, চীনের রাষ্ট্রদূতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চীন সফরের আমন্ত্রণ বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বালেন শাহ: র‌্যাপের মঞ্চ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ

বালেন শাহ: র‌্যাপের মঞ্চ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ