কয়লা আমদানিতে শুল্কছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব, বিদ্যুতের দাম রাখতে উদ্যোগ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কয়লা আমদানিতে শুল্কছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব, বিদ্যুতের দাম রাখতে উদ্যোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 11, 2026 ইং
কয়লা আমদানিতে শুল্কছাড় বাড়ানোর প্রস্তাব, বিদ্যুতের দাম রাখতে উদ্যোগ ছবির ক্যাপশন:

দেশের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmood ChowdhuryJatiya Sangsad-এ উপস্থাপিত এই বাজেট দেশের ৫৫তম বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি হবে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে বিদ্যুতের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কয়লা-নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জোগান দিচ্ছে। ফলে কয়লা আমদানির ওপর শুল্ক-কর কম থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও কম রাখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অনেক সময় বেড়ে যায়। এ অবস্থায় শুল্কছাড়ের মতো সুবিধা বিদ্যুৎ খাতকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। এর ফলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

এছাড়া, দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শুল্কছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হলে কয়লা আমদানিতে ব্যয় কমবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed-এর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। বাজেটটি সংসদে উপস্থাপনের আগে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি Mohammad Shahabuddin এতে সম্মতি জানাবেন।

প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেটে মোট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে এ ধরনের প্রণোদনা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগও বাড়ে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, কয়লা আমদানিতে শুল্কছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর এই প্রস্তাব বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে এবং গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গরুর হাটে চাঁদাবাজি, পারভেজ খানকে আটক করল পুলিশ

গরুর হাটে চাঁদাবাজি, পারভেজ খানকে আটক করল পুলিশ