ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সায়াদ-৩জি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। এই মহড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিচালিত ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ শীর্ষক নৌ মহড়ার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরান সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।
সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩-এর নৌ সংস্করণ। এটি প্রথমবার সমুদ্রে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হলো। সোজাসুজি উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকর দূরপাল্লা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। ইরান আগের স্থলভিত্তিক সায়াদ-৩ সংস্করণটি ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে পরীক্ষা করেছিল, যার দূরপাল্লা ছিল ১২০ কিলোমিটার।
আইআরজিসি নৌবাহিনী উৎক্ষেপণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থার নজর কেড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মহড়া ইরানের আঞ্চলিক সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য বহন করে। ইরানের কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শহিদ সোলাইমানি শ্রেণির সামরিক জাহাজগুলোকে আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় দিয়ে সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।
হরমুজ প্রণালীতে অনুষ্ঠিত মহড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে তিন দিন ধরে চলেছে। মহড়ার এই সময়ে নৌবাহিনী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বাস্তবায়ন অন্যতম। এ ধরনের মহড়া ইরানের সামরিক কৌশল এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই উৎক্ষেপণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠেছে। এই মহড়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
এছাড়া ইরান এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অগ্রগতি অর্জনের সংকেত দিয়েছে। সমুদ্রভিত্তিক সায়াদ-৩জি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় সফলতা ইরানের নৌবাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলয় স্থাপন এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম করবে।
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নৌ মহড়া এবং সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলবে এবং শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা কৌশলকে শক্তিশালী করবে।
কসমিক ডেস্ক