বিদ্যুতের চরম বিপর্যয়, পিরোজপুরে ভুগছেন ৩০ হাজার গ্রাহক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিদ্যুতের চরম বিপর্যয়, পিরোজপুরে ভুগছেন ৩০ হাজার গ্রাহক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 30, 2026 ইং
বিদ্যুতের চরম বিপর্যয়, পিরোজপুরে ভুগছেন ৩০ হাজার গ্রাহক ছবির ক্যাপশন:

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় বিদ্যুতের চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। সামান্য ঝড়, বৃষ্টি কিংবা বাতাস হলেই পুরো এলাকায় দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা জনজীবন ও কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকের জন্য চারটি উচ্চ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক ফিডার রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই চারটির মধ্যে দুটি ফিডারে তুলনামূলক স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও বাকি দুটি ফিডারে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ সংকট চলছে।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পঞ্চবেকী বাজার হয়ে রাজাবাড়ী, বিন্না, বলদিয়া এলাকা এবং দৈহারীর ঠাকুরহাওলা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের বাসিন্দারা। এছাড়া সুটিয়াকাঠি বয়েজ স্কুল থেকে বৈঠাকাঠা কাজীর পূর্বপাড় পর্যন্ত বিস্তৃত আরেকটি ফিডারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহ কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি বা ঝড়ো বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসে না। এমনকি বড় ধরনের দুর্যোগ বা বন্যার সময় অনেক এলাকায় ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে, চাঁদ মিয়া স্কুল থেকে নান্দুহার এবং ইন্দুরহাট বাজার হয়ে নাওয়ারা পর্যন্ত বিস্তৃত অন্য দুটি ফিডারে তুলনামূলকভাবে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় থাকে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশ ওই এলাকায় বসবাস করায় সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়, কিন্তু গ্রামীণ অঞ্চলের গ্রাহকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বলদিয়া ইউনিয়নের বিন্না গ্রামের কৃষক রতন দাস জানান, দিনে ৩-৪ ঘণ্টাও ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ফলে সেচ পাম্প চালানো, ধান ভাঙানোসহ কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই এলাকার বলদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন বলেন, এই গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ এলেও তা কয়েক মিনিট পরপর চলে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী জানান, আগে বছরে কয়েকবার লাইনের পাশের গাছপালা পরিষ্কার করা হলেও বর্তমানে তা নিয়মিত করা হয় না। ফলে সামান্য বাতাসে গাছের ডাল বিদ্যুতের তারে স্পর্শ করলেই লাইন ট্রিপ করে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক সময় ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আগে এলাকায় এমন সমস্যা ছিল না। ঝড়-বন্যার মৌসুম শুরুর আগেই নিয়মিত লাইন পরিষ্কার করা হতো, ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো থাকত। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কৌঁড়িখারা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জানে আলম আংশিক সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিছু ফিডারের ভৌগোলিক অবস্থান ও অতিরিক্ত গাছপালার কারণে সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান, সময়মতো গাছপালা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, কারণ বর্তমানে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট রয়েছে।

তবে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবশেষে বলা যায়, বিদ্যুতের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট শুধু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেই ব্যাহত করছে না, বরং কৃষি উৎপাদন ও শিক্ষাক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকতে হুইপের

বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকতে হুইপের