আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারী-পুরুষ সমান অধিকার নিশ্চিত করে একটি সমতা মূলক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষভাবে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে-বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। দেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বেগম খালেদা জিয়া নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন।” শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দপ্তর’ এবং ১৯৭৮ সালে ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হয়েছিল। পরে এটি ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করা হয়, যা নারীর ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান সরকারও এই ধারাবাহিকতায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে আরও বলেন, সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা চালু করতে, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম ও ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা প্রদান করতে এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণে কাজ করছে।
নারীর নিরাপত্তা বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার বুলিং ও অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। যেখানে সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে নিশ্চিত হবে।”
তিনি এই প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা, আর ক্ষমতায়ন হোক দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করছেন।
এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন, নারী-পুরুষ সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি। নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে।
এইভাবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ নির্মাণ, যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু শীর্ষ পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রতিটি পরিবার, কমিউনিটি ও কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের নারীদের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির এক শক্তিশালী প্রমাণ।
কসমিক ডেস্ক