দুপুরের খাবারের পর অনেকেই হঠাৎ মাথাব্যথা অনুভব করেন। কারও ক্ষেত্রে এটি সামান্য অস্বস্তি তৈরি করলেও, কারও জন্য তা মাইগ্রেনের মতো তীব্র সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার পেছনে শুধু একটি নয়, বরং একাধিক শারীরিক ও জীবনযাপনের কারণ কাজ করতে পারে।
সম্প্রতি দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুপুরের খাবারের পর মাথাব্যথার সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস, পানিশূন্যতা, ঘুমের ঘাটতি এবং রক্তে শর্করার ওঠানামার সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে।
ভারতের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকার বলেন, যারা দুপুর ১টার পর খাবার খান, তারা খাবারের সঙ্গে বা পরে একটি কলা খেতে পারেন। এছাড়া বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে হালকা স্বাস্থ্যকর নাশতা করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, প্রয়োজনে লবণ-চিনিযুক্ত শরবত পান করা, দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে না তাকানো এবং তীব্র রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে নিয়মিত আঁশসমৃদ্ধ ও রসালো ফল খাওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে অ্যাস্টার সিএমআই হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. পূজা পিল্লাই জানান, অতিরিক্ত চিনি বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে আবার হঠাৎ কমে যেতে পারে। এই ওঠানামার ফলেই অনেকের মাথাব্যথা শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খেলে শরীরের বেশি রক্ত হজম প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। ফলে কিছু মানুষের মাথা ভারী লাগা, ঘুম ঘুম ভাব কিংবা মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি না পান করা, সকালের নাশতা বাদ দেওয়া, দুপুরে দেরিতে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত কফি পান করা কিংবা হঠাৎ কফি ছেড়ে দেওয়াও মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার মাইগ্রেনের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পুরনো চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস, চকলেট, অ্যালকোহল এবং এমএসজি (Monosodium Glutamate)-যুক্ত খাবার। পাশাপাশি মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, হরমোনের পরিবর্তন এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণেও মাথাব্যথা বাড়তে পারে।
মাথাব্যথা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা দুপুরের খাবারে পূর্ণ শস্য, শাকসবজি, ফল, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে পরিমিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করাও উপকারী হতে পারে।
তবে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও যদি বারবার মাথাব্যথা হয়, ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে তীব্র হয় অথবা এর সঙ্গে বমি, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শরীরের কোনো অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা
কসমিক ডেস্ক