যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝালঝাড়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) রাতের এই ঘটনায় ছেলের দেওয়া আগুনে বাবার ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে আগুনে ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমিন ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি মহাসীন খান বর্তমানে সাতক্ষীরায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত। তিনি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। গ্রামে তার পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে বাবার পুনরায় বিয়ে নিয়ে সন্দেহ এবং পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মহাসীন খানের মা রোকেয়া বেগম জানান, ছেলে আল-আমিন সম্প্রতি কিছু গাছ বিক্রি করেছে এবং এরপর বাড়িতে আগুন দেয়। তিনি দাবি করেন, মহাসীন নতুন করে কোনো বিয়ে করেননি। তবে পারিবারিক অশান্তির কারণে বাপ-ছেলের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল।
মনিরামপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক বলেন, মহাসীনের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। বাপ-ছেলের মধ্যে বনিবনা না থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুনে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বসতঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত আল-আমিনের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে। তবে ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও পারিবারিক দ্বন্দ্বের ভয়াবহ পরিণতির দিকটি সামনে এনে দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ছোটখাটো বিরোধ সময়মতো সমাধান না হলে তা বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সবাইকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক