ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপি ও সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপি ও সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 9, 2026 ইং
ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপি ও সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ বিএনপি এবং বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ব্যাংকের মর্যাদা, স্থিতিশীলতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি, পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিরোধী দলের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্ন ও প্রস্তাবেরও জবাব দেন অর্থমন্ত্রী।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে যেসব বিতর্ক ও অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোরই বাস্তবভিত্তিক প্রমাণ নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠী যদি ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল বা ব্যর্থ করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত ও মূল্যায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, অর্থ গ্রহণের বিষয়টি সবসময় সরাসরি ব্যক্তির নামে না-ও হতে পারে এবং এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

সংসদে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নির্বাচনী ব্যয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, অপ্রদর্শিত অর্থ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করলে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালকদের নিয়ে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখেছে। গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাদের আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা।

ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকাশিত মুনাফার চিত্র সবসময় প্রকৃত আর্থিক অবস্থাকে প্রতিফলিত করে না। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন সংরক্ষণ এবং আর্থিক দায়-দেনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আইনি ও নীতিগত কাঠামোর মধ্যে থেকে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।

বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একজন দক্ষ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম ব্যক্তি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে রয়েছেন। নীতিমালার আলোকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তিনি ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফুলবাড়ীতে বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৫ বছর পূর্তি

ফুলবাড়ীতে বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৫ বছর পূর্তি