স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রকল্প অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রকল্প ফাইল সচিবের সই ছাড়াই অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে।
কমিটিকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই তদন্তের আওতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।
ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে পিরোজপুর জেলার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কাজ না করেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে গত দুই বছর ধরে ওই জেলার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে আছে।
তিনি আরও জানান, সরকার দ্রুত পিরোজপুর পরিদর্শনে যাবে এবং বন্ধ থাকা প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক, সেতু এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তের আওতায় আনা হবে।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার চায় স্থানীয় সরকার খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে। তাই অতীতের যেকোনো অনিয়ম, সেটা ২০০৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যেকোনো সময়ের হোক না কেন, সবই খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে প্রকল্প ফাইল অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রকল্প ফাইল সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই অনুমোদিত হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা এখন তদন্তাধীন রয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে এই তদন্ত কমিটি গঠনের ফলে স্থানীয় সরকার খাতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তদন্ত শেষ হলে পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক