ভারতের হিমালয়কন্যা সিকিমে গত কয়েক ঘণ্টায় দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। একের পর এক কম্পনে কেঁপে উঠেছে সিকিমের গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকা। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, অন্তত আট থেকে ১০ বার ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সিকিমের এই সিরিজ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরসহ রাজশাহী, নওগাঁ অঞ্চলেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হওয়ায় এসব এলাকায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের নামচি এবং মাঙ্গান এলাকায়। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬।
এরপর রাত ২টা ২০ মিনিটে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার এবং ভোর ৩টা ১১ মিনিটে ৪ দশমিক ০ মাত্রার আরও দুটি মাঝারি কম্পন রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত আরও পাঁচ থেকে ছয়টি ছোট আকারের আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প অগভীর হওয়ায় কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয় এবং দূরবর্তী এলাকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিকিম ও সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। ফলে সেখানে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। বড় কম্পনের পর একাধিক ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ভূমিকম্পের কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক