শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক কার্জন হল এলাকায় তিনটি বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মাসব্যাপী পরিচালিত হবে। আয়োজকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে আয়োজিত ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, গবেষণামূলক কাজ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী স্থান পেয়েছে, যা তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিজ্ঞানচর্চা—দুটি ক্ষেত্রই দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে যেমন পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব, তেমনি বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রসার দেশের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিগুলো শুধু স্মরণমূলক আয়োজন নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে অবদান রাখার একটি প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিজ্ঞান মেলার মতো উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করবে।
মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমও আয়োজন করা হবে। আয়োজকদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য দেশ গঠনে সহায়ক হবে।
কসমিক ডেস্ক