উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা ও হামলার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে কুয়েত সরকার দেশের সব মসজিদে তারাবির নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে বড় ধরনের হামলার ঘটনার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এরই মধ্যে কুয়েতেও একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন আঘাত হানে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানায়।
এদিকে কাতার-ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইফতার পার্টিসহ বিভিন্ন গণসমাবেশ ও কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।
কাতারের রাজধানী দোহা-তে অবস্থিত অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি-কে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোরতা আরোপ করছে। ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তকে সাময়িক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে।
কসমিক ডেস্ক