দীর্ঘ ১৮ বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন চিকিৎসক বেলাল হায়দার। ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে এতদিন তার গেজেট প্রকাশ স্থগিত ছিল। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে গেজেট প্রকাশের পর তাকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়।
জানা যায়, বেলাল হায়দার ২০০৫ সালে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ২০০৭ সালে স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য উত্তীর্ণ হন। তবে ছাত্রদল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে তার নিয়োগের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়। ফলে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম নানা কারণে স্থগিত থাকলেও গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ দীর্ঘ শুনানি শেষে ২৭তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশসহ তাকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদায়নের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সম্প্রতি পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় বেলাল হায়দার বলেন, “২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শুধু রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আমার গেজেট আটকে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ বছর অপেক্ষার পর আদালতের রায়ে গেজেট প্রকাশ হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আমাকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে—এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার অনেক ব্যাচমেট ইতোমধ্যে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে সিভিল সার্জন পদে পদোন্নতি পেয়েছে। আর আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটে গেছে আইনি লড়াইয়ে। তবুও ন্যায়বিচার পেয়েছি—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
প্রসঙ্গত, বেলাল হায়দার কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পেকুয়া উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত চেম্বারের মাধ্যমে দীর্ঘদিন স্থানীয় জনগণকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই রায় সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে। তারা মনে করছেন, এতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক নিয়োগে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
১৮ বছর পর সরকারি চাকরিতে যোগদানের এই ঘটনা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই এটিকে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।