ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার দিবাগত রাতে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় এক শিশুসহ কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স সাবস্টেশনে হামলার কারণে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সেখান থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
কিয়েভের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলা প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলে। এতে রাজধানীর অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনে আগুন এবং উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা দেখা গেছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কিয়েভসহ দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা, চেরকাসি ও চেরনিহিভ অঞ্চলের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে।
হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু নিন্দা জানানো নয়, বরং যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কিয়েভের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং বিমান হামলার সাইরেনের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলেনস্কির ওই সতর্কবার্তার পর রাজধানীর অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অবস্থান নেন। স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে বিমান হামলার সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক