আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বায়ু লিকের আশঙ্কা ঘিরে সৃষ্ট জরুরি পরিস্থিতি আপাতত কেটে গেছে। রুশ মডিউলে ফাটল মেরামতের কাজ চলাকালে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পাঁচ মহাকাশচারীকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং প্রয়োজনে স্টেশন ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। তবে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করেছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।
শুক্রবার (৬ জুন) সকালে নাসার মিশন কন্ট্রোল স্টেশনে অবস্থানরত ক্রু-১২ মিশনের চার সদস্যকে তাদের ডক করা স্পেসএক্স ক্রু ড্রাগন মহাকাশযানে প্রবেশের নির্দেশ দেয়। তাদের সঙ্গে স্টেশনে থাকা আরও একজন মার্কিন মহাকাশচারীকেও একই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল বায়ু লিকের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। তবে পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর নাসা ও রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে তাৎক্ষণিক কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই।
গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের রাশিয়ান অংশে অবস্থিত জেভেজদা সার্ভিস মডিউলে ছোট ছোট বায়ু লিক শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে আসছে নাসা ও রসকসমস। মডিউলটি মহাকাশচারীদের বসবাস ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রসকসমস জানিয়েছে, তারা দুটি বায়ু লিক শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং অন্যটির সমাধানে কাজ চলছিল। সংস্থাটির মতে, এই লিকগুলো মহাকাশ স্টেশনের প্রধান সিস্টেম বা মহাকাশচারীদের নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেনি।
তবে নাসার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বায়ু লিকের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১ পাউন্ড বায়ু হারাচ্ছিল স্টেশন, সেখানে তা বেড়ে প্রায় ২ পাউন্ডে পৌঁছায়। এ কারণেই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দুটি মিশনের অধীনে মোট সাতজন মহাকাশচারী অবস্থান করছেন। তারা বিজ্ঞান গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং স্টেশনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
নাসার মুখপাত্র বেথানি স্টিভেন্স জানিয়েছেন, রসকসমস মেরামতের কিছু কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়। এরপর নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ তুলে নেওয়া হয় এবং মহাকাশচারীদের স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরে যেতে বলা হয়।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রায় ২৭ বছরের ইতিহাসে এমন সতর্কতা খুবই বিরল। অতীতে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য সংঘর্ষ কিংবা বায়ু লিকের কারণে কয়েকবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কখনোই মহাকাশচারীদের পুরো স্টেশন ত্যাগ করতে হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কার্যক্রম ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ লক্ষ্যে কংগ্রেসে একটি বিলও উত্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণা ও বেসরকারি মহাকাশ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক