টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পৌরবাসী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পৌরবাসী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 13, 2026 ইং
টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পাবনা শহর, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পৌরবাসী ছবির ক্যাপশন:

টানা বর্ষণ এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শহরের অনেক সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শালগাড়িয়া, রাধানগর, দিলালপুর, নারায়ণপুর, আরিফপুর, মুজাহিদ ক্লাব-আতাইকুলা রোড, গোবিন্দা, কালাচাঁদপাড়া, নূরপুর, মনসুরাবাদ, ছাতিয়ানী, বাজিতপুর রোড, বাবলাতলা, নয়নামতি, যুগিপাড়া, হাসপাতাল রোড, মহিষের ডিপো, অনন্তপাড়া, রূপকথা সিনেমা হল রোড, বিনাবাণী সিনেমা হল রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বসতবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা অভিযোগ করেন, নিয়মিত কর ও ভ্যাট পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা মিলছে না।

শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, টানা বৃষ্টিতে তাদের ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। রাধানগরের ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন বলেন, দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতা কমে গেছে এবং ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।

আরিফপুরের বাসিন্দা খোকন হোসেন বলেন, বাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কালাচাঁদপাড়া এলাকার বাসিন্দা কল্পনা আক্তার জানান, কয়েক দিন ধরে ঘরের ভেতরে পানি জমে রয়েছে। এতে রান্নাবান্না, শিশুদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবও বেড়েছে।

মুজাহিদ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, সড়কে এত পানি জমেছে যে অনেক জায়গায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পানি জমে থাকায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

লতিফ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার অচিন্ত কুমার ঘোষ বলেন, পাবনা পৌর এলাকার পানি মূলত দোহারপাড়া ও আরিফপুর সংলগ্ন বুড়িদাহ কালভার্টের নিচের খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু খালটি দখল ও ভরাট হয়ে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তিনি খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখননের দাবি জানান।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানান, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত পাবনায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধ এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, কিছু ড্রেন সংস্কার এবং নতুন ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাবনা পৌরসভাসহ জেলার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের কড়া জবাব খেলাফত মজলিসের

ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের কড়া জবাব খেলাফত মজলিসের