ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম-এর নামে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ। সোমবার (৪ মে) কমিশন এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানায়।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে যাতে একই আসনের আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের পক্ষ থেকে আদালতের কোনো নতুন নির্দেশ বা নথি আসে কি না তা যাচাই করা যায়। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো নতুন তথ্য না আসে, তবে নুসরাত তাবাসসুমের নামেই গেজেট প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, মনিরা শারমিনের দেওয়া চিঠিতে কোনো আইনি ভিত্তি বা নির্দিষ্ট শুনানির তারিখ উল্লেখ না থাকায় কেবল চিঠির ওপর ভিত্তি করে গেজেট স্থগিত রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনির্দিষ্টকাল বিলম্ব করা যায় না।
তিনি আরও জানান, কমিশন এখন পর্যন্ত আদালত থেকে মনিরা শারমিনের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ পায়নি। তাই গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন ভবনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও গেজেট প্রকাশ নিয়ে এ ধরনের দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে এবার বিষয়টি আইনি জটিলতার কারণে আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
উল্লেখ্য, মনিরা শারমিন আগেই নির্বাচন কমিশনে একটি চিঠি দিয়ে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে কমিশন বলছে, সেই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ বা কাগজপত্র এখনও জমা পড়েনি।
ইসি জানিয়েছে, যদি সন্ধ্যার মধ্যে আদালত থেকে কোনো নির্দেশনা আসে, তবে তা অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে। কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে যে, আদালতের আদেশ থাকলে তারা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং কোনো আপিল করবে না।
রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উদাহরণ, আবার কেউ মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত ছিল যাতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা না থাকে।
সব মিলিয়ে এখন নজর নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট ঘোষণার দিকে। সন্ধ্যার পরই জানা যাবে নুসরাত তাবাসসুমের নামেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হবে কি না।
কসমিক ডেস্ক