ঝিনাইদহ শহরের বাইপাস কলাহাট এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতাসহ দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পবহাটি কলাহাটের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক টোটন (২৪)। অপরজন হলেন আরাপপুর এলাকার দুখী মাহমুদ সড়কের বাসিন্দা শাহীন বিশ্বাসের ছেলে শাহরিয়ার জামান শান্ত (২৫)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে শান্ত তার বন্ধু টোটনের মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হন। তারা ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে আরাপপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলাহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুজনই সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা টোটনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টোটনের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়। ছাত্রদল নেতার আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, শান্তকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তবে টোটনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও আঘাতের কারণে তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এ বিষয়ে আরাপপুর হাইওয়ে থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাকচালক ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। তাকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঝিনাইদহ বাইপাস এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাতে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।