রাজধানীর ডেমরায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. শামীম মাতবর (১৮) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা গলাকাটা ব্রিজ এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম মাতবর পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত সান্টু মাতবরের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকার সারুলিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন এবং জীবিকার তাগিদে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরের দিকে শামীম নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত একটি রড অসাবধানতাবশত কাছাকাছি থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। এতে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি গুরুতর দেখে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। দুপুর প্রায় ১টার দিকে তাকে হাসপাতালে পৌঁছানো হয় বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, বিদ্যুতের তীব্র আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নিহত শামীম মাতবরের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা নির্মাণ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক সময় নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, বৈদ্যুতিক তারের ঝুঁকি কিংবা সতর্কতার অভাবের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণ কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সচেতনতা জরুরি।
ডেমরার এই ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। সহকর্মীরা জানান, শামীম পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন তরুণ শ্রমিক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে এসে কাজ করতেন তিনি।
ঘটনার পর তার সহকর্মী ও পরিচিতদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কসমিক ডেস্ক