গাজায় ৯৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিখোঁজ, নারী-শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গাজায় ৯৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিখোঁজ, নারী-শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 4, 2026 ইং
গাজায় ৯৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিখোঁজ, নারী-শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক ছবির ক্যাপশন: গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হাজারো ফিলিস্তিনি নিখোঁজ হওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আল-দামির।

গাজা উপত্যকায় চলমান সংঘাতের মধ্যে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। গাজাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন Al-Dameer Human Rights Organization তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর এখন পর্যন্ত ৯৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৪৭০০ জন নারী ও শিশু রয়েছে। সংঘাতের তীব্রতা, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার কারণে অনেক মানুষের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৮১০০ মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান সীমিত থাকায় তাদের অনেকের ভাগ্য এখনো অজানা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি গাজায় মানবিক বিপর্যয়কে আরও গভীর করছে।

এছাড়া ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশপাশ থেকে আরও প্রায় ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও বলা হয়েছে, উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি সামরিক তল্লাশি চৌকিতে ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে বা বর্তমানে তারা কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রবেশ করা প্রায় ৩৫০ জন মানুষের ভাগ্য এখনো অজানা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সংখ্যা ও পরিস্থিতি নিয়ে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন আল-দামির বলেছে, এই পরিস্থিতি গাজার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি। তাদের মতে, জোরপূর্বক নিখোঁজ করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, বন্দিদের মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো জরুরি।

এছাড়া নিখোঁজ ও নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে একটি জিনগত তথ্যভান্ডার বা ডিএনএ ডাটাবেজ তৈরিরও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি, যাতে ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্তকরণ সহজ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হবে এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
১৮ মাস পর বন্ধ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজ

১৮ মাস পর বন্ধ হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল পেজ