আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে সংগঠনটির পরবর্তী কর্মসূচিও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
রোববার দিবাগত মধ্যরাতে এক বিবৃতিতে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
শাহাদাত হোসেন বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি ইস্যুতে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এসব বিষয়ে আমাদের অবস্থান এবং পরবর্তী কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।”
এর আগে মনোনয়নপত্র বৈধ ও অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তোলে জামায়াতে ইসলামী। রোববার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির নেতারা বলেন, মনোনয়ন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় মূলত ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব—এই দুটি বিষয় বিবেচনায় নিচ্ছে। তবে একই ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হচ্ছে, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত ইসির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।” তার মতে, এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং দাবি-দাওয়ার বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হবে। ফলে সোমবারের এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক